23.11.08

ও পাগল মঅন মন রে, মন কেন এত কথা কয়?


১.
'তোকে কেমন জানি বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে। কি হয়েছে?' - দেখা হওয়ার সাথে সাথেই তার প্রশ্ন।
'কই না তো! কিছুই তো হয়নি! ঘুম কম হয়েছে, হয়তো তাই ওরকম দেখাচ্ছে।' ...

দুজন যখন পরে একটু একা হলাম, সে আবার চেপে বসল - 'কি ব্যাপার? কোন খবর আছে নাকি?'
'হুমম....' দির্ঘশ্বাস ফেলে আমি পাল্টা প্রশ্ন করি, 'আল্লাহ অন্তর্যামিত্বটা কেন শুধু তোদেরকেই দিলেন?'

আসলেই কয়েকদিন ধরে আমি অনেক ধরণের চিন্তার মাঝে ঘুরপাক খািচ্ছ। অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত, সব চিন্তায় একসাথে এসে ভীর জমিয়েছে আমার এই ক্ষুদে মাথায়। আচ্ছা মনটা কম্পিউটার প্রোগ্রামের মত ইচ্ছে মতো চালু বা বন্ধ করা যায় না কেন??

এক দিক দিয়ে কাজের প্রচন্ড চাপ। আমার কাজটাও শালার একখান... চিন্তা করাটাই নাকি কাজ! এক সময় ভেবেছিলাম চিন্তুক হিসেবে খারাপ হবোনা, কিন্তু সত্যি সত্যিই চিন্তুক হতে গিয়ে েদখছি, ইটস মাচ ইজিয়ার সেইড দ্যান ডান। চিন্তার এই জগৎটা বিশাল, অথৈ, অন্তহীন। গন্তব্য তো দুরের কথা, ডানে না বাঁয়ে যাবো তা ই ঠাহর করে উঠতে পারছিনা।
নদীর এ কুলটা সবসময়ই কন্টকাকীর্ণ হয়, তাই না?

তার উপর আবার যোগ হল ভবিষ্যতের ঝামেলা। তাও আবার স্বপ্নের সাথে জড়িত, রঙীন স্বপ্ন...
মাঝে মাঝে মনে হয় দুৎ ছাই, গুল্লি মারি সব কিছুরে - কি দরকার উটকো ঝামেলা স্বাধ করে ঘাড়ে চাপানোর?

২.
আমার দুটো সোনার হরিণ ছিল। টুকটুকে সোনালি, দেখতে স্বর্গীয়। কিন্তু ভারি অভিমানি, যত্ন আত্বির একটু অভাব হলেই কষ্ট পেত ভীষণ। যদিও মুখ ফোটে কিছুই বলতনা, িকন্তু দুঃখ ভরা দীঘল কালো চোখ দুটো তো আর লুকানো যায়না।
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে আমার হরিণের সংখ্যা - নতুন নতুন সব হরিণ, নানা রঙের, নানা ঢংয়ের। আর ফিকে হয়ে আসে সোনার হরিণের প্রিয়ত্ব।

নতুনের রঙের মোহে আটকে পরা এই আমি টেরও পেলাম না কবে যে সেই পুরোনো প্রিয় সোনার হরিণ দুটো নতুনের মিছিলে ঠিকতে না পেরে একদিন পালিয়েই গেল গহীন জঙ্গলে।
তারও অনেক পরে, নতুনের ধুসর হয়ে আসা রঙ দেখে মোহভঙ্গ হয় আমার, বুঝতে পারি ওল্ড ইজ গোল্ড। অনেক খঁুজাখুঁজির পর অবশেষে আমি জানতে পারলাম পালিয়েছে তারা ভবিষ্যতে, ভবিষ্যতের রঙীন স্বপ্নের কোলে।।

আর তাই আমিও আটকা পরি ভবিষ্যতের ঘুর্ণিপাকে।।